fbpx

অগ্রগতির চেতনা

Just another WordPress site

অগ্রগতির চেতনা

মো. জিয়াউদ্দিন শাহ্

আমি জেদ্দা এয়ারপোর্ট-এ কাজ করি। ডিউটি শেষ করে বের হলে দেখি, টেক্সিওয়ালারা যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছেন। অপেক্ষা দেখে বলার ইচ্ছে হয়, কেউ ঢাকা ঢাকা বলে ডাকছেন না কেন? কিছু লোক ঢাকা পৌঁছে দেওয়ার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকুক। ঢাকা শহরের আনাচে-কানাচে স্টেশন টু স্টেশন পৌঁছে দেওয়া সার্ভিসের মতো কেউ এসে এখানেও ডাকুক। ইচ্ছা হয় সপ্তাহে দু’দিন ছুটিতে বা মাসে একবার হলেও দেশে চলে যাই। রবিবার সকালে এসে কাজে যোগ দেই। সেদিন হয়তো বেশি দূরে নয়। পরবর্তী প্রজন্মে এটাই হবে স্বাভাবিক। শুধু প্রবীণ মানুষগুলো হবে স্মৃতিরও অতীত।

 আজকের স্বপ্নে যা চ্যালেঞ্জ, আগামীর সফলতায় তা বাস্তব। অগ্রগতির বাস্তবায়নে এমনই ঘটছে, ঘটবে…। আগামীর কোনো একদিন বিমান কর্মকর্তাদের হেল্পারও নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া স্টেশনের নাম ধরে ডাকতে পারে, তেমন অসম্ভব কিছু নয়। মাল্টিপল ভিসার রেওয়াজ অচিরেই সহজ হতে শুরু করেছে। বিমান এবং টিকিটের দাম শিথিল হলে বর্তমানেই তা সম্ভব ছিল। উচ্চপদস্থের বিমানকর্মীরা ফ্রি টিকেটে চলফেরা করেন। কেউ আবার পান সাময়িক ফ্রি টিকেট, কিনলেও এদের জন্য আছে বিশেষ ছাড়। সৌদি এয়ারলাইন্স-এর স্টাফরা অতি অল্প মূল্যেই রাউন্ড ট্রিপ টিকেট কিনে বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ করেন। বিজ্ঞানের নব আবিষ্কারও বিশ্ববাসীকে জানিয়েছে, একই খরচে মাত্র এক ঘণ্টায় পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে পৌঁছাতে সক্ষম হবে। আমার বোধশক্তি প্রায় দাবি করত, মানুষের মৃত্যুক্ষণে পাঞ্জা খেলা মুহূর্তের অ্যাম্বুলেন্সগুলো অতি শিগগিরই আকাশ পথে চলতে শুরু করবে ইনশাআল্লাহ। কাল্পনীয় এ মতভেদ প্রকাশের আগেই দেখতে পাচ্ছি, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স চলতে শুরু করছে। এটাই স্বাভাবিক। পরিবর্তন ঘটেছে, ঘটবেই…। অদূরে অনেক কিছুই বদলে যাবে। সৌদি গভর্নর ভিশন ২০৩০-এর আওতায় উন্নত বিশ্বের অনুকরণে রাস্তাঘাট আরও আধুনিকায়নের সংস্কারে হাজার হাজার কোটি রিয়াল বরাদ্দের মাধ্যমে দ্রুত কাজ চালাচ্ছেন। জেদ্দায় সম্পূর্ণভাবে নতুন করে ডিজিটাল বিমান বন্দর তৈরি করেছে। রাস্তাঘাটের চারপাশে কৃত্রিম ফুল ও গাছ দিয়ে নয়নাভিরামে সাজাচ্ছেন। হাতে স্পর্শ না করে শুধু দূর থেকে দেখে বুঝার উপায় নেই এগুলো কৃত্রিম। কৃত্রিম কৌশলে সুন্দরের প্রতি তাক লাগানোর চেষ্টায় মানুষ সফল। চেতনার বিষয় হলো, প্রকৃতির সঙ্গে মাটি এবং পৃথিবীর সম্পর্কের অবনতি ঘটছে! এ রকম হাজার কোটি কৃত্রিম গাছ লাগালেও মাটির সঙ্গে প্রকৃতির নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠছে না। গাছের অক্সিজেন ত্যাগ এবং কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণে মানুষেরও কোনো লাভ হচ্ছে না। 

লাভ-লসের এ হিসেব আমার করার কথা না হলেও বলা যায়, এ বিপর্যয়ের মূল্য কিন্তু পৃথিবীর মানুষকেই দিতে হয় এবং হবে…। প্রবাস থেকে দেশে গেলে দেশীয় সিম চালাই। এখানে আসলে এদেশের সিম চালাতে হয়। রোমিং করে এক দেশের সিম অন্য দেশে চালানো গেলেও মূল্য বেশি। প্রবাসের অনেকেই দেশের প্রিয়জন এবং আত্মীয়-স্বজনদের মোবাইলে mb পাঠান কিংবা ব্যালেন্স রিচার্জ করে দেন। তাহলে নিজ দেশের সিম বহির্বিশ্বে ব্যবহার করতে সমস্যা কোথায়? ইন্টারনেটতো সবই হাতের মুঠোতে এনে দিয়েছে। এক দেশের সিম জেনারেলি অন্য দেশেও চালানো যায় তা-ও করে দিক। বিজ্ঞানের জন্য এ আর তেমন কঠিন কী? এতে ব্যবসারও প্রসার ঘটবে, ব্যবহাকারীরাও কিছু অগ্রিম সুবিধা ভোগ করবে। স্টিভ জবস, জেফ বেজোস, জুকারবার্গ, বিলগেইট বা মাইক্রোসফট যা-ই বলি, এরা মানব কল্যাণের অগ্রগতিতে বেশ প্রশংসা কুড়াচ্ছেন। এদের কেউ-ই বারবার ধনীদের শীর্ষে থাকার প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ায়নি, দাঁড়াতে চায়নি। পৃথিবীর হিসাব-নিকাশের অধিকাংশ অর্থ নিজের হিসেবের খাতায় জমা করছেন বলেই যেন এরা বাহবার দাবিদার। জগতের অধিকাংশ মানুষ-ই এদের নাম শুনলে বাহবা দিতে ভুল করেন না। 

অথচ এরা চাইলে মানবতার কল্যাণে আরও সহজ মূল্যে এ সেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারতেন। বিনিময়ের মূল্য নিতে এরা অতিরিক্ত অর্থ শোষণে কখনই ক্ষান্ত হননি। কোনোদিন হবেনও না। বিজ্ঞানের যে সমস্ত বড় অবিষ্কার মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজতর করেছে, সেই সব আবিষ্কারকে পুঁজি করে মাত্রার চেয়েও বেশি অর্থ নিয়েছে। বিমানের বেলায়ও এমনটাই ঘটেছে। আকাশ ছোঁয়া অবিচার! ওরা আজব ক্ষমতার অধিকারী। এনেছেন আবিষ্কারের ছোঁয়া। ছোঁয়াতে নিচ্ছে শুধু টাকা। ওদের আছে দ্য ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। অনুমোদন ছাড়া কেউ যেমন একটি বিমান বানাতে পারবে না, তেমনি বিমানের একটি স্ক্রুও বিক্রি করতে পারবে না। আমেরিকা, ব্রিটেন ও ইউরোপে তৈরি দশ টাকার পণ্যের মূল্য দ্বিগুণ বা কয়েক গুণ বেশি নিতে পারত। একটি বিমান কেনার মূল্যে কয়টি বিমান তৈরি করা যায় ওরাই ভালো জানেন। আমি এতে অবাক হওয়া উপলব্ধি করেছি! ওরা একচেটিয়া ব্যবসা করছে। আইনের শাসনে এরা পৃথিবী দখল করে নিয়েছে। 

অর্থনীতিবিদদের মতে শুধু ইরাক যুদ্ধের অর্থায়নে এমন একটা বিশ্ব তৈরি করা সম্ভব ছিল। যুদ্ধ আজও থামেনি। থামার লক্ষণও নেই এবং দেখি না। মানুষ হত্যা চলছে, চলবে! নিরাপরাধ শিশুরাও বিস্ফোরণের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে। নিভে যাচ্ছে প্রাণ। অবিচার, অত্যাচার, নির্যাতন, হত্যা ও ধর্ষণ প্রতিদিনই সংবাদের শিরোনাম। বিশ্ববাসীর অগ্রগতির ছোঁয়া বিশ্বকেই প্রতিনিয়ত ধ্বংস করে যাচ্ছে! বড়ই আজব খেলা! এখানে এসে প্রতিবাদ প্রতিকারও নিরুপায়!

লেখক : সৌদি প্রবাসী।

বিডি-প্রতিদিন/শফিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Show Buttons
Hide Buttons